২০০৭ সালের ১০ আগস্ট যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির আসামি হিসেবে যশোর কারাগারে প্রবেশ করেন মিন্টু ও আজিজুর। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আজ ওই দুইজনের ফাঁসি কার্যকর হবে। বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৬ নম্বর কনডেম সেলের এক নম্বর কক্ষে রয়েছেন মিন্টু ওরফে কালু। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়ের লক্ষীপুর গ্রামের আলী হিমের ছেলে। দুই নম্বর কক্ষে রয়েছেন একই গ্রামের বদর ঘটকের ছেলে আজিজুর ওরফে আজিজুল। তারা আলমডাঙ্গা উপজেলার জোরগাছা হাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। শনিবার স্বজনদের সাথে তাদের শেষ দেখা হয়ে গেছে। ফাঁসির মঞ্চও প্রস্তুত। জল্লাদদের প্রশিক্ষণও শেষ। এখন শুধু কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, রোববার দুপুর দেড়টার সময় যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। এরআগে শনিবার দুপুরে দুই আসামির পরিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ দেখা করার জন্যে আসেন। ঘণ্টা খানেক কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় তাদের।
এছাড়া, শনিবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে বালির বস্তা ব্যবহার করে জল্লাদ মশিয়ার ও কেতু কামালকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ওইসময় কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলসুপার জাকির হোসেন (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) উপস্থিত ছিলেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অপর একটি সূত্র জানায়, আগামীকাল সোমবার ওই দু’ আসামির শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হবে। পরে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে একই মঞ্চে দু’জনের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার জোরগাছা হাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগম ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর খুন হন। হত্যার আগে তাদের দু’জনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় । প্রতিবেদনে বলা হয়, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় ওই দুই নারীকে। এ ঘটনায় নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নারগিছ বেগম খুনের পরদিন আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দু’জনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দুইজন হলেন, সুজন ও মহি। ২০০৩ সালে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আজিজুরকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান মহি। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃত্যুদন্ড দেয়। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা বহাল রাখে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দু’ আসামির রায় বহাল রেখে সুজনের খালাস প্রদান করে। গত ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সুজন।
এদিকে, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে চিঠি পাঠানো হয়। যা ৮ সেপ্টেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুহিন কান্তি খান জানান, সকল প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন। সোমবার রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।


No comments:
Post a Comment