গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ইং ১১/০৬/২০২২ তারিখ সকাল ১১:০০ ঘটিকার সময় নিহত লাভলু হোসেন এর ছেলে সাকিল হোসেন (১৬) ও তার স্ত্রী সালমাকে ডিবি পুলিশের টিম নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। সাকিল হোসেন ঘটনা আড়াল করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে সে তার পিতার লাভলু হোসেন এর হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা (গোপন) করার কথা স্বীকার করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে এবং সে হত্যার সময় ও লাশ গুম করার ঘটনাস্থলে হত্যাকারীদের সথে উপস্থিত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে হত্যার কারনসহ বিস্তারিত বিবরন দেয় সাকিল।
একপর্যায়ে তার স্বীকারোক্তি মতে তার বাড়ীর দক্ষিন পার্শ্বে জনৈক সদু পাগলের পুকুর থেকে ১ টি বিদেশী পিস্তল ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি অবস্থায় উদ্ধার করে ডিবি। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামী কামরুজ্জামান ওরফে খোড়া কামরুলকে ধরতে অভিযান চালায়।
একপর্যায়ে সাকিলের তথ্য মোতাবেক খোড়া কামরুলের সহযোগী ইসরাইল নামের এক যুবককে আটক করে তার স্বীকার অনু্যায়ী আরও ১টি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। পরে হত্যার ঘটনাস্থল খোড়া কামরুলের বসতবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে খোড়া কামরুল ও তার স্ত্রী পলাতক থাকায় যে কক্ষে লাভলুকে হত্যা করা হয়েছে সে কক্ষের তালা খোলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাকিলের তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়। নিহত লাভলু এর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদেও এক পর্যায়ে হত্যার কারন উদঘাটন করে ডিবি পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে ও ধৃত সাকিলের তথ্য মোতাবেক জানা যায় যে, কামরুজ্জান ওরফে খোড়া কামরুল তার সহযোগীদের মাধ্যমে ১/২ মাস আগে স্বর্ণ চোরা কারবারীদের নিকট থেকে অনুমান ৬/৭ কেজি স্বর্ণ ছিনতাই করে। খোড়া কামরুলে একান্ত সহযোগী লাভলুর ছেলে সাকিল ও স্বর্নকার কবীর হাওলাদের মাধ্যমে স্বর্ণের বার বিক্রি করে লাভলুসহ একত্রিত হয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ভাগবটোয়ারা করে বলে জানা যায়, তারই ধারাবাহিকতায় ঐ দিন বৃহঃ বার রাতে খোড়া কামরুল ও কবীরের ডাকে কামরুলে বাড়ীতে লাভলু ও তার ছেলে সাকিল উপস্থিত হয়।
সাকিল ঘরের বাইরে মোবাইলে গেমস খেলতে থাকে, পরিকল্পনা মোতাবেক খোড়া কামরুল, কবীর ও রফিকুল পরস্পর যোগসাজসে লাভলু নিয়ে ঘরে থাকে। রাত অনুমান ১২.০০ টার সময় হঠাৎ একটি গুলির আওয়াজ হয়। সাকিল ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে দেখে তার পিতা লাভলু উলঙ্গ চিত হয়ে মেঝেতে পরে আছে। বুক ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
সে সময় খোড়া কামরুল, তার স্ত্রী, বোন সঙ্গীয় কবীর ও রফিকুল সাকিলকে শান্তনা দেয় লাভলুর বুকে গুলি লাগছে এবং মরে গেছে। সাকিলকে অর্থ ও জীবন জীবিকার লোভ দেখিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহ করার জন্য খোড়া কামরুলের স্ত্রী ও বোন মুখে ছেড়া লুঙ্গী গুজে দেয় এবং কামরুলের নির্দেশে কবীর ও রফিকুল মটরসাইকেল যোগে বেলতলা আমবাগানের মধ্যে লাভলুর লাশ গুম করে এবং সাকিলকে অস্ত্রগুলি দিয়ে গোপন করতে বলে।
লাভলু তার ছোট ভাইয়ের হত্যার বাদী হওয়ায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য সাকিলকে হত্যাকারী কামরুল গং পরামর্শ দেয় বলে জানায় সাকিল।


No comments:
Post a Comment