যশোরে বহুল বিতর্কিত পিস হাসপাতাল ও জনসেবা সংসদ সোসাইটিতে অভিযান চালিয়ে সিলড করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম মুজিব সড়কের পিস হাসপাতালে অভিযান চালায়। এ সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান ক্লিনিক পরিচালনার বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। নেই ডিপ্লোমা নার্স, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও প্যাথলজিস্ট। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করে রোগীর অপারেশন করা হয়। এসব কারণে ওই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটি সিলড করে দেয়।
উল্লেখ্য, ১২ মে রাতে পিস হাসপাতালে অপচিকিৎসায় মুন্নি খাতুন (২৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মৃতের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাপক হট্টগোল করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পিস হসপিটালের নাম আগে ল্যাব এইড হাসপাতাল ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৭ সালে শেষ হলেও হালনাগাদ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন না করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের ৬ আগস্ট ল্যাব এইড হাসপাতালে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর নাম পাল্টে পিস হাসপাতাল নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অপরদিকে, বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের ঘোপ জেল রোডের জনসেবা সংসদ সোসাইটিতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে দেখা যায়, ডি কে নাথ নামে এক ব্যক্তি ডাক্তার সেজে রোগী দেখছেন ও তিয়ানশির পণ্য বিক্রি করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এলএমএএফ, ডেন্টাল, প্যাথলজি, থেরাপি ও ফার্মেসি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করছেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এসব অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠান সিলড করা হয়। এ সময় কথিত ডাক্তার নিজের পোস্টার নিজেই ছিড়তে বাধ্য হন।


No comments:
Post a Comment