নিজ স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার জিডির ঘটনা ঘটেছে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে। ইসলাম ধর্মের শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমানের নামে এ জিডি হয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেয়ার কথা বলে মাওলানা হাফিজুর রহমান লাখ লাখ টাকা নেন। এ ঘটনা জানাজানির পর পাওনাদাররা স্কুলে গিয়ে ঝামেলা করলে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের বাইরে এসব বিষয় মিটিয়ে ফেলতে বলেন। তাতে মাওলানা হাফিজুরের লোকজন তাকে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়েছে। ফলে যশোর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছেন প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরীন সুলতানা। যার নম্বর ৮০৯। তারিখ ১৬.১১.২০২১।
অভিযোগ উঠেছে, চাকরি দেয়ার কথা বলে মাওলানা হাফিজুর রহমান চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর মুক্তারপুরের মনিরুজ্জামানকে একটি বিশেষ বাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে আট লাখ টাকায় চুক্তি করেন। এরপর নগদ তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরি দিতে না পারায় আব্দুল আজিজ টাকা ফেরত চান তার কাছে। বেশ কিছুদিন পর এক লাখ টাকা ফেরত দেন মাওলানা হাফিজুর। বাকি দু’ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী। আবেদনে উল্লেখ করা হয় টাকা লেনদেনের বিষয়টি একশ’ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র এবং হাফিজুরের দেয়া উত্তরা ব্যাংকের তিন লাখ টাকার একটি চেক রয়েছে বলে। এরপর প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরীন সুলতানা মাওলানা হাফিজুর রহমানকে ডেকে লেনদেনের বিষয়ে স্কুলের বাইরে সমাধান করতে বলেন। তখন তিনি আগামী ২০ ডিসেম্বর টাকা পরিশোধ করবেন বলে চলে যান।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার রাত আটটার পর একব্যক্তি ০১৭১১-৩৪৯৬৩০ নম্বর থেকে প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরীন সুলতানার মোবাইল ফোনে কল করে হুমকি দিয়ে বলেন,‘যশোরের সব লোক আমাকে চেনে। আমার বাড়ি আরএন রোডে। আপনি মাওলানা হাফিজুর রহমানের লেনদেনের বিষয়ে নাক গলাবেন না। মহিলা মানুষ মহিলা মানুষের মতো থাকবেন। বরং আমি যা বলছি সেই কথাগুলো বলবেন।’ জবাবে প্রধান শিক্ষিকা তার শেখানো কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তখন ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি আরও উগ্র আচরণ করেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা। এ ঘটনায় তিনি মঙ্গলবার সকালে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। জিডিতে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment